ব্লগিং করে কত টাকা আয় করা যায় জেনে নিন ধাপে ধাপে

ব্লগিং করে কত টাকা আয় করা যায়:  বর্তমানে বাংলাদেশের অনেকে ব্লগিং করে মাসে লক্ষাধিক টাকা উপর্জন করছে। তাও আবার ঘরে বসে লেখালেখি করে। এমনকি অনেকে ব্লগিংটাকে নিজের পেশা হিসাবে নিয়েছে। তাই আজকের আলোচ্য বিষয় হলো “ব্লগিং করে কত টাকা আয় করা যায় ” সে সম্পর্কে।

আমাদের মাঝে অনেকে আছেন যাদের বিভিন্ন বিষয়ের ওপর লেখালেখির আগ্রহ আছে। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে তার সুন্দর লেখনীর মাধ্যমে মন জুগিয়েছেন অনেক মানুষের। কিন্তু তারা অনেকেই জানেন না, নিজের লেখার শখটাকে কাজে লাগিয়ে একটি ইনকার করার রাস্তা তৈরি করা যায় । আর তা হলো ব্লগ লেখা বা কোন বিষয় সম্পর্কে আর্টিকেল লেখা ।

বর্তমানে যদি কেউ পেশা হিসাবে ব্লগিংকে নিতে চাই এবং একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করে তাহলে সে অবশ্যই সফল হবে। কয়েক বছর আগেও ব্লগিংকে শুধু শখ হিসেবে দেখা হতো। কিন্তু সময় পাল্টায়েছে বর্তমানে ব্লগিংকে অনলাইন থেকে আয় করার একটি কার্যকর উপায় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এরই প্রেক্ষিতে অনেক লেখক বা ব্লগারের পাশাপাশি চাকুরীজীবি বা ছাত্ররা ব্লগিংকে পূর্ণ বা খণ্ডকালীন পেশা হিসেবে বেছে নিচ্ছেন।

ব্লগিংকে যারা পেশা হিসাবে নিতে চান এবং ব্লগিং করে আয় করার উপায় খুজছেন কিন্তু কোন গাইডলাইন পাচ্ছে না। তাদের জন্য আজকের এই  পূর্ণাঙ্গ  ব্লগিং গাইড।

ব্লগিং করে আয় করার উপায়
                                                  ব্লগিং করে কত টাকা আয় করা যায়

Table of Contents

ব্লগিং করে কত টাকা আয় করা যায় তা জানার জন্য সম্পুর্ণ পোষ্টটি পড়ুন ভালোভাবে

ব্লগ মানে কি বা ব্লগ কাকে বলে ?

এক কথায় ব্লগ হলো অনলাইন ডাইরি যেখানে আপনি আপনার ইচ্ছা মতো যা খুশি লিখতে পারেন।ব্লগে আপনি গল্প, কবিতা, এসএমএস, আর্টিকেল, পত্রিকা ইত্যাদি লিখতে পারেন। অনলাইনে লেখালেখি করার জন্য ব্লগ একটি পারফেক্ট প্লাটফর্ম।

কেন ব্লগিং করবেন?

ব্লগিং এর মানে হলো লেখালেখি করা। প্রাথমিক অবস্থায় বাংলা ভাষায় মানুষ কেবল লেখালেখির নেশা হিসেবে ব্লগিং-কে বেছে নিলেও বিগত কয়েক বছর ধরে (বাংলায় Google Adsense-এর অনুমতি পাওয়ার পর থেকে) অনেকেই তাদের পেশা হিসেবে বাংলা ব্লগিং-কে গ্রহণ করেছেন।

বর্তমানে বাংলায় অনেক জনপ্রিয় ব্লগ রয়েছে যেখান থেকে প্রতিমাসে ৫ থেকে ৬ অংকের বা তার থেকেও বেশি টাকা ইনকাম করছেন যা চাইলে আপনার পক্ষেও সম্ভব।

কিন্তু  কিভাবে সেটা ? তা জানার জন্য যুক্ত থাকুন আমাদের সাথে ।

ব্লগিং এর প্রকারভেদ

বর্তমান বিশ্বের অন্যতম একটি জনপ্রিয় পেশা হলো ব্লগিং। তরুণ বয়স থেকে শুরু করে ছোট-বড় প্রায় সকলেই এই পেশাকে নিজেদের জীবনের সাথে জড়িয়ে নিচ্ছে। প্রত্যেকেই  বিভিন্ন বিষয়ের উপরে তাদের পছন্দ অনুযায়ী ব্লগিং করে  থাকেন।

মূলত ব্লগিং এর বিভিন্ন প্রকারভেদ রয়েছে। কোন ওয়েবসাইটে কি ধরনের পোস্ট  বা কনটেন্ট দেওয়া হয় তার উপর নির্ভর করে ওয়েবসাইটের ব্লগকে অনেকগুলো ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। এদের মধ্যে কয়েকটি নিচে উল্লেখ করা হলো:

ব্যক্তিগত ব্লগ-Personal Blog

যখন কোন ব্যক্তি ব্যক্তিগত মতামত গুলো  ব্লগের মধ্যে লিখিত আকারে প্রকাশ করে তখন সেই ব্লগকে ব্যক্তিগত ব্লগ বা Personal Blog বলে।  তিনি তার ব্লগের মধ্যে যে বিষয়াব্লি নিয়ে লেখালেখি করে থাকেন সেই বিষয়টি নিয়ে পাঠকদের সাথে মতামত আদান প্রদান করে থাকেন।

সাধারণতঃ এই ধরনের ব্যক্তিগত ব্লগে ব্যক্তি তার দৈনন্দিন জীবনধারা এবং নিজস্ব মতামত প্রকাশ করে থাকেন। ব্যক্তিগত ব্লগ এর পরিমাণ দিনের পর দিন বেড়েই চলছে।  মূলত ব্যক্তিগত ব্লগ শখ থেকেই  ব্যক্তি তৈরি  করে এবং নিজের আনন্দ বেদনা  শেয়ার করার মাধ্যমে তার শখ পূরণ করে থাকেন।

সামাজিক ব্লগ-Social blog

যে সকল ব্লগ বা ওয়েবসাইটে নানান পেশার নানান ধরনের মানুষ তাদের মু্ক্তচিন্তা অথবা মতামত প্রকাশ করে  থাকে তাকেই  সামাজিক ব্লগ বলে।

কোন ব্যক্তি তার নিজস্ব আর্টিকেল যে কোন ব্লগে প্রকাশ করার পর ওই ব্লগের অন্যান্য যারা ব্লগার রয়েছেন তারা ব্যক্তির পোষ্টের মধ্যে তারা তাদের বিভিন্ন মন্তব্য প্রদান করতে পারেন। যেমন somewhereinblog একটি সামাজিক ব্লগের অন্তর্ভুক্ত।

ব্যবসায়িক ব্লগ-Business Blog

ব্যাবসায়িক ব্লগ হলো এমন এক ধরনের ব্লগ যেখানে কোন কোম্পানী বা প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্য বা সেবার উপর কোম্পানির নতুন নতুন তথ্য প্রকাশ করে থাকেন।

এখানে কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের পণ্যের ওপরে গ্রাহকরা তাদের মতামত দিয়ে থাকেন। ব্যবসায়ী ব্লগ মূলতঃ তৈরি করা হয়ে থাকে কোন একটি কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের পণ্য বা সেবা গ্রাহকদের মধ্যে প্রচারের অথবা যোগাযোগ রক্ষার জন্য। যেমন- গুগল ব্লগ, অপেরা ডেস্কটপ টিম ইত্যাদি।

প্রশ্ন ব্লগ-Question Blog

এই ধরনের ব্লগে বিভিন্ন ধরনের ব্যক্তি ও ব্লগার  প্রশ্ন করে থাকেন এবং বিভিন্ন ব্যক্তিরা তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকেন।প্রতিনিয়ত এই ধরনের ব্লগের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

প্রশ্ন এবং অ্যানসার ব্লগগুলোতে যে কোন ব্যক্তি খুব সহজেই তার প্রশ্নের উত্তর পেতে পারেন। কারণ এখানে অনেক মানুষ উত্তর দেওয়ার জন্য অপেক্ষায় আছে। প্রশ্ন ব্লগের একটি উদাহরণ হল: ইয়াহু এনসার, Quora ইত্যাদি।

খবর ব্লগ-News Blog

সাম্প্রতিক সময়ের ঘটনাবলী নিয়ে যে ব্লগে লেখালেখি করা হয় সেই সকল ব্লগগুলিকে বলা হয় খবর ব্লগ বা News Blog ।  বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে খবর বা News ব্লগ খুব জনপ্রিয়।

বাংলাদেশের খবর ব্লগ বা News Blog গুলোর মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় ব্লগগুলো হলো: প্রথম আলো, সময় টিভি, কালের কণ্ঠ, বাংলাদেশ প্রতিদিন, দৈনিক যুগান্তর ইত্যাদি। প্রায় প্রতিদিন  নিত্য নতুন খবর ব্লগ তৈরি হচ্ছে যার ফলে এই ধরনের ব্লগের সংখ্যা দ্রুত গতিতে বেড়েই চলেছে।

বর্তমান সময়ে আরও কয়েক ধরনের ব্লগ দ্রুত গতিতে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। আর সেই সকল ব্লগের একটি উদাহরণ হলো: মাইক্রো ব্লগ। মূলতঃ মাইক্রোব্লগ ব্যক্তিগত ব্লগিং এর একটি অংশ।

আরোও পড়ুনঃ “How to Delete Disapprove Adsense Account

ব্লগিং করে কত টাকা আয় করা যায়  তার কয়েকটি মাধ্যম

১। বিজ্ঞাপন প্রকাশ

সবথেকে সহজ ও প্রচলিত উপায় হলো বিজ্ঞাপন প্রকাশ। যদি কোন ব্লগার প্রথম থেকেই ব্লগ থেকে আয়ের কথা ভাবেন তাহলে বেছে নিতে হবে এই উপায়টি। সারা বিশ্বে ব্লগে বিজ্ঞাপন প্রকাশ করে তা থেকে আয় একটি চালু উপায়, আর আমাদের দেশেও এটা সমান জনপ্রিয়। কোন ব্লগে বিজ্ঞাপন প্রকাশ করলে, পাঠক যদি সেই বিজ্ঞাপনে ক্লিক করে তাহলেই মিলবে কমিশন বা ইনকাম।

ব্লগে কীভাবে বিজ্ঞাপন প্রকাশ

ব্লগে বিজ্ঞাপন প্রাকাশ করে আয় করার জন্য প্রথমেই বেছে নিন একটি বিজ্ঞাপন নেটওয়ার্ক। ব্লগার এবং বিজ্ঞাপনদাতা উভয় ক্ষেত্রে সবচেয়ে জনপ্রিয় বিজ্ঞাপন নেটওয়ার্কটি হলো গুগলের AdSense।  এছাড়াও রয়েছে BidVertiser, Infolinks এর মতো হাজারো এড নেটওয়ার্ক সংস্থা।

আপনার পছন্দের নেটওয়ার্কে বিজ্ঞাপন প্রকাশক হওয়ার জন্য আবেদন করতে হবে। আবেদনপত্রে অন্যান্য তথ্যের সঙ্গে আপনার ব্যাঙ্ক আকাউন্ট, যেখানে কমিশনের টাকা পাঠানো হবে তার বিবরণও দিতে হবে। সুতরাং সেই বিবরণ তৈরি রাখতে হবে।

আপনার আবেদন মঞ্জর হলে বিজ্ঞাপন নেটওয়ার্কের তরফ থেকে একটি ইমেইল করে তা জানিয়ে আপনাকে  জানিয়ে দিবে। এরপর আপনাকে সেই বিজ্ঞাপন নেটওয়ার্ক বিজ্ঞাপন কোড দিবে যা আপনি আপনার ব্লগে প্রকাশ করবেন। আপনি আপনার ব্লগে পছন্দ মতো জায়গায় এটি প্রকাশ করতে পারবেন, যেমন আপনি এটিকে লেখার মাঝে বা সাইড বারে রাখতে পারেন।

আপনি বিজ্ঞাপন কোডটি ঠিক স্থানে সেট করার পর অল্প সময়ের মধ্যেই বিজ্ঞাপন নেটওয়ার্কের পক্ষ থেকে তা আপনার ব্লগে প্রকাশ করা হবে এবং বিজ্ঞাপনটি আপনার ব্লগে দৃশ্যমান হবে। আপনার পাঠকরা যখন ওই বিজ্ঞাপনে ক্লিক করবে তখন আপনার একাউন্টে টাকা জমা হবে।

কত টাকা পেতে পারেন

এই পদ্ধতিতে প্রতি ক্লিকে ০.০১ থেকে ৫০ ডলার পর্যন্ত আয় করার সুযোগ রয়েছে। এই আয়  নির্ভর করে আপনার ব্লগের বিষয়ের ওপর কারণ ব্লগের বিষয়ের উপর ভিত্তি করে দেওয়া হয় বিজ্ঞাপন। আপনার আয়ের পরিমাণ নির্ভর করছে কতজন পাঠক  বিজ্ঞাপনটি ক্লিক করছেন তার ওপর।

বেশি আয় করবেন কীভাবে

আপনার ব্লগে কোন জায়গায় বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হলে সবথেকে বেশি পাঠকের চোখে পড়বে ও তাঁরা তাতে ক্লিক করতে উত্সাহিত হবে, সেটা খুঁজে বের করার চেষ্টা করতে হবে। বিজ্ঞাপনের ধরণও সঠিকভাবে সিলেক্ট করতে হবে। যেমন কিছু ব্লগে ছবিসহ বিজ্ঞাপনে বেশি ক্লিক হয় আবার কিছু ব্লগে, লেখা বিজ্ঞাপনের উপর বেশি ক্লিক হয়। তাই ব্লগের বিষয়বস্তুর উপর নির্ভর করে বিজ্ঞাপনের ধরন নির্ধারন করতে হবে। তাহলেই কেবল বেশি আয় হবে বিজ্ঞাপন প্রকাশ করে।

২। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং

ব্লগ বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে বেশ ভাল রকমের আয় হতে পারে। এই পদ্ধতিতে ব্লগে লেখার মাধ্যমে কোন একটি পণ্য বা পরিষেবার প্রচার করতে হবে। সতর্ক  থাকতে হবে পণ্য বা পরিষেবা বাছায়ের ক্ষেত্রে। আপনার পাঠকরা কী ধরনের পণ্য কিনতে পারে সেটি বুঝতে হবে আপনাকে। তার জন্য প্রয়োজন গবেষণা ও বিশ্লেষণ। প্রচার করার সময়ও হতে হবে বেশ সাবধানী, পাঠক আপনার লেখা পড়ার জন্য আপনার ব্লগে আসেন, সারাক্ষণ পণ্য বা পরিষেবার প্রচার দেখলে তারা  বিরক্ত হতে পারেন।

লেখার সঙ্গে মিল রেখে পণ্য বা পরিষেবার লিঙ্ক আপনার ব্লগে প্রকাশ করতে হবে। যখন পাঠক সেই লিঙ্কে ক্লিক করে কিছু কিনবেন  শুধুমাত্র তখনি আপনি কমিশন পাবেন।

আপনার ব্লগে কীভাবে এটি ব্যবহার করবেন-

প্রথমেই সিলেক্ট করুন কোন পণ্য বা পরিষেবার মার্কেটিং করতে চান। কয়েকটি প্রচলিত জনপ্রিয় অ্যাফিলিয়েট নেটওয়ার্ক হলো  Amazon, Clickbank, OMG India, Trootrac media। এছাড়াও ফ্লিপকার্ট বা ইবের মতো কোম্পানিতে মার্কেটিং অ্যাফিলিয়েট হিসেবে সরাসরি যুক্ত হওয়ার সুযোগ আছে। পছন্দের ওয়েবসাইটে গিয়ে আবেদন করতে হবে। আবেদনের সময় আপনার মার্কেটিং কৌশল ও পদ্ধতি সম্পর্কে জানাতে হতে পারে ।

বেশিরভাগ অ্যাফিলিয়েট নেটওয়ার্ক ২৪-৭২ ঘন্টার মধ্যে সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয় আপনার আবেদন গৃহীত হল কি না। আপনার আবেদন গৃহীত হলে অ্যাফিলিয়েট অ্যাকাউন্টটিতে লগ-ইন করে বেছে নিতে পারবেন আপনার ব্লগের জন্য উপযুক্ত লিঙ্কটি। উপযুক্ত লিঙ্ক বা বিজ্ঞাপনটি আপনার ব্লগে যোগ করার পর দেখে তা ঠিক মতো কাজ করছে কি না তা যাচাই করুন।

অ্যাফিলিয়েটর হিসেবে আয় করার জন্য আপনি এবার উপযুক্ত। এখন কেউ ওই লিঙ্কে ক্লিক করে কোন পণ্য বা পরিষেবা কিনবে আপনি তা থেকে কমিশন পাবেন নির্দিষ্ট হারে।

কত টাকা পেতে পারেন-

আপনি পণ্য বিক্রয়মূল্যের ২.৫ শতাংশ থেকে ৫০ শতাংশ অবধি পেতে পারেন । পণ্য বা ওয়েবসাইটের ওপর কমিশনের মূল্য নির্ভর করে। যেমন কেউ যদি ফ্লিপকার্টের বিজ্ঞাপন দেয়, তাহলে কোনও ক্রেতা মোবাইল ফোন কিনে তাহলে সে যে পরিমান  কমিশন পাবেন, তার থেকে অনেক বেশি পরিমান কমিশন পাবে কেউ জামাকাপড় কিনলে।

বেশি আয় করবেন কীভাবে-

আপনার পাঠকের কথা মাথায় রেখে পণ্য বা পরিষেবা নির্বাচন করতে হবে। যে সকল জিনিসের বিক্রি বেশি তার কমিশন কম, তাই পণ্য বা পরিষেবা নির্বাচনের সময় এমন পণ্য বাছুন যা তুলনামূলকভাবে কম বিক্রি হয় কিন্তু আপনার পাঠক তা কিনতে উৎসাহী।

৩। নিজের পণ্য বিক্রি

ব্লগের সাহায্যে নিজের পণ্য বিক্রি করা সবথেকে স্থায়ী ও নিশ্চিত আয়ের পদ্ধতি । এই পদ্ধতিতে আয়ের ওপর সবথেকে বেশি নিয়ন্ত্রণ রাখা সম্ভব। ব্লগার পণ্য ডিজাইন, দাম নির্ধারণ ও মার্কেটিং পুরোটাই  নিজে নিজেই করেন তাই আয়ও তাঁর নিজের উপর নির্ভর করে।  নিজের পরিকল্পনা ও দক্ষতা অনুযায়ী পণ্য বা পরিষেবা নির্ধারন করে ব্লগের মাধ্যমে সেটি বিক্রি করুন।

আপনার ব্লগে কীভাবে এটি ব্যবহার করবেন-

নিজে বা অন্য কাউকে দিয়ে কোনও একটি পণ্য বা পরিষেবা তৈরি করুন। ইবুক, ভিডিওকোর্সের মত ডিজিটাল পণ্য বা বই, কুকি ইত্যাদি যা খুশি তৈরি করতে পারেন। সেই পণ্য বা পরিষেবার মূল্য নির্ধারণ করুন। পণ্যটি কিভাবে ক্রেতার কাছে পৌঁছানো যাবে  ক্যুরিয়র বা পোস্টে না কি ক্রেতাকে নিজে এসে সংগ্রহ করতে হবে তা নির্ধারন করুন। বিক্রয়মূল্য সংগ্রহের পদ্ধতি ঠিক করুন যেমনঃ পে-প্যাল, নগদ, চেক, ব্যাঙ্কে সরাসরি টাকা পাঠানো ইত্যাদি। আপনার এবং ক্রেতার উভয়ের জন্যই সবথেকে বেশি সুবিধাজনক পদ্ধতিটি বেছে নিন।

ব্লগে একটি ল্যান্ডিং পেইজ যোগ করুন। সেখানে আপনার তৈরি পণ্যের বিস্তারিত বিবরণ দিন, পণ্যটির ব্যবহার, উপযোগীতা ইত্যাদি সম্পর্কে  লিখুন, যোগ করুন কেনার বাটন। নিজের পাঠকের বাইরে অন্যদের মাঝেও আপনার পণ্যের প্রচার করুন। ব্যবহার করুন সোশ্যাল মিডিয়া, ইমেল মার্কেটিং বা অ্যাডওয়ার্ডের মত  মার্কেটিং পদ্ধতিগুলো।

কত টাকা আয় করতে পারেন-

এর কোন নির্দিষ্ট সীমা নেই। দাম, উৎপাদনমূল্য সবই যেহেতু আপনি নিজে ঠিক করবেন তাই আয়ও আপনার হাতে, পণ্য যত ভাল হবে বিক্রিও তত বেশি হবে।  আর  বিক্রী বেশী হলে তা থেকে আয়ও বেশি হবে।

বেশি আয় করবেন কীভাবে-

পাঠকের চাহিদা বিশ্লেষণ করে এমন পণ্য তৈরি করুন যা আপনার পাঠক কিনতে উৎসাহী হবে।

৪। ব্লগে সরাসরি বিজ্ঞাপন প্রকাশ

ব্লগ থেকে টাকা রোজগারের খুবই চালু পদ্ধতি হলো কোনও কোম্পানির সঙ্গে সরাসরি কথা বলে তাদের পণ্যের বিজ্ঞাপন ব্লগে দেওয়া। এরফলে অ্যাড নেটওয়ার্ককে বাদ দিয়ে সরাসরি কোম্পানির বিজ্ঞাপন দিতে পারছেন। যার ফ্লে বাড়ছে আয়। এছাড়াও আপনিই নিজেই ঠিক করতে পারবেন কোন কোম্পানীর কোন পণ্যের বিজ্ঞাপন দেবেন এবং তার জন্য কত টাকা চার্জ করবেন। ফলে  সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকছে আপনার হাতে। তবে সব ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি কার্যকরী হয় না।

কীভাবে কাজ করে

আপনি ব্লগে বিজ্ঞাপনটি প্রকাশ করলে সেই বিজ্ঞাপনে কেউ ক্লিক করবে আপনি টাকা পাবেন। অথবা মাসিক বা সাপ্তাহিক মূল্যও ধার্য্য করতে পারেন। তাহলে পাঠকের ক্লিক করার ওপর আপনার আয় নির্ভর করবে না।

আপনার ব্লগে এটি ব্যবহার করবেন কীভাবে-

ব্লগের কোন জায়গায় বিজ্ঞাপন দিতে পারেন। যেমনঃ হেডার, ফুটার, সাইডবার বা লেখার মধ্যে যে কোনও জায়গায়। আপনার ব্লগে বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য কী করতে হবে তার বিবরণ তুলে ধরে একটি পেইজ তৈরি করুন। সেখানে লিখতে পারেন আপনার পাঠক কারা, আপনি লিখনীয় বিষয় কি এবং আপনার ব্লগে বিজ্ঞাপনের চার্জ কত। ব্লগের বিভিন্ন জায়গার জন্য বিভিন্ন মূল্য তালিকা নির্ধারণ করতে পারেন।  যেমন হেডারে বেশি মূল্য ঠিক করলেন আর লেখার মধ্যে কম ইত্যাদি । আপনার ফোন নম্বর বা ই-মেইল আইডিও উল্লেখ করতে পারেন।

মানিটাইজেশন নেটওয়ার্ক-এ নিজের ব্লগকে অর্ন্তভুক্ত করান। এই নেটওয়ার্কের সাহায্যে আপনি অনেক বিজ্ঞাপনদাতার কাছে পৌঁছতে পারবেন। BuySell Ads এই ধরনের একটি জনপ্রিয় নেটওয়ার্ক। ব্লগের যে জায়গায় বিজ্ঞাপন দিতে চান  সেখানে বর্ডার দিয়ে বক্স আকারে লিখুন “এখানে বিজ্ঞাপন দিন”। যার ফলে বিজ্ঞাপনদাতার দৃষ্টি আকর্ষণ করবে। অনেক সময়ই বিজ্ঞাপনদাতা মূল্যের বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে ঠিক করতে চায়, সেই সুযোগ রাখুন। মূল্যের বিষয় সহমত হলে বিজ্ঞাপন প্রকাশ করুন ও টাকা আয় করুন।

কত আয় হতে পারে-

আপনি নিজেই যেহেতু মূল্য নির্ধারণ করবেন তাই আপনার ওপরই নির্ভর করছে আয়ের পরিমাণ। তবে যত বেশি পাঠক আয়ও ততই বেশি।

বেশি আয় করবেন কী ভাবে-

ব্লগের যে যে জায়গায় বিজ্ঞাপন দেবেন সব জায়গাতেই “এখানে বিজ্ঞাপন দিন” লিখবেন না। আমার মতে কোনও কোনও জায়গায় কিছু ফেক বিজ্ঞাপন দিন, এর ফলে বিজ্ঞাপনদাতার আপনার ব্লগে বিজ্ঞাপন দিতে উৎসাহী হবেন।

পরিশেষে

উপরোল্লিখিত উপায়গুলোই হলো ব্লগিং করে কত টাকা আয় করা যায় তার সবথেকে প্রচলিত উপায়। ব্লগ থেকে আয় করার যেমন কোনও রকেট সায়েন্স নয় তেমনই ছেলেখেলাও নয়। পণ্য বাছার ক্ষেত্রে খুবই সতর্ক হওয়া প্রয়োজন এবং ব্লগের নিয়মিত পাঠক সৃষ্টির জন্য পরিশ্রম করতে হবে নিয়মিত। যত বেশি সংখ্যক নিয়মিত পাঠক তৈরি হবে আয়ও তত বৃদ্ধি পাবে। ব্লগের প্রচার করাও প্রয়োজন। অনেক ব্লগার খুব ভাল মানের প্রবন্ধ লেখেন কিন্তু প্রচার করেন না, তাই তা তাদের লেখাগুলো ব্যক্তিগত ডায়েরির মতই সবার অন্তরালেই রয়ে যায়। প্রচারই একমাত্র মাধ্যম যা দ্বারা পাঠকের কাছে পৌঁছনো সম্ভব। তাই ব্লগে নিয়মিত পোষ্ট করুন এবং সাথে প্রচারনা চালিয়ে যান । সাথে ব্লগিং করে কত টাকা আয় করা যায় তার যে কোনও একটি  উপায় বেছে নিন আর আয় করুন ব্লগ থেকে।

Share on:
Avatar

আমি এই ব্লগ সাইটটির প্রতিষ্ঠাতা। এই ব্লগে টিপস & ট্রিক, ফ্রিনেট অফার সহ আরো অনেক কিছুর উপর সঠিক ও নির্ভুল তথ্য দেওয়া হয়।

Leave a Comment

error: Content is protected !!